ফেসবুক পিক্সেল ব্যবহার করেছেন কি?

আমাদের দেশে অনেকেই ফেসবুকে মার্কেটিং করেন। কিন্তু তারা পিক্সেল সম্পর্কে জানেন না বা কখনো ব্যবহার করেন নি। এটা শুধু ফেসবুকের ক্ষেত্রেই না, গুগল এনালিটিকস টুলের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়। যদি আপনার ওয়েবসাইট না থাকে তবে পিক্সেল ব্যবহার করারও অপশন নেই।

ফেসবুক পিক্সেল (Facebook Pixel) কি?

ফেসবুক পিক্সেল হল কতিপয় কোড যা ওয়েবসাইটের হেডার সেকশনে দিয়ে দিতে হয়। এটি আপনার ওয়েবসাইটের বিভিন্ন তথ্য এনালাইসিস করার জন্য প্রদান করে থাকে। যেমন, কতজন কাস্টমার ভিজিট করল, কোন প্রডাক্ট পেইজ ভিজিট করল, কোথা থেকে কাস্টমার বের হয়ে গেল ইত্যাদি বিষয়। সেক্ষেত্রে কাস্টমারের আচার-আচরন (behavior) সম্পর্কে আপনি জানতে পারবেন। তারপর তাদেরকে রি-টার্গেট করে আপনি এড দিতে পারবেন।

উদাহরনস্বরূপ ধরুন, কতিপয় কাস্টমার আপনার একটি প্রডাক্টের পেইজ ব্রাউজ করল। কিন্তু তারা এটা কিনল না। তাদের আগ্রহ আছে বলেই তারা কিন্তু হাজার হাজার প্রডাক্টের মধ্যে ঐ প্রডাক্টটির পেইজ ব্রাউজ করেছে। কিন্তু হয়তো কোন কারনে কিনেনি। পরবর্তীতে আপনি যদি তাদেরকে কোন একটা অফার দেন, তাহলে এদের একটা অংশ হয়তো ঐ প্রডাক্টটা কিনবে। আশা করি সবাই বুঝতে পেরেছেন।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

প্রথম ধাপঃ পিক্সেল তৈরী করাঃ

প্রথমে ইভেন্ট ম্যানেজারে যান। তারপর Connect Data Sources এ যান এবং Web সিলেক্ট করুন। Get Started ক্লিক করুন। Facebook Pixel সিলেক্ট করুন এবং Connect ক্লিক করুন। পিক্সেল কিভাবে কাজ করে তা এখান থেকে পড়ে নিন এবং Continue ক্লিক করুন। তারপর Pixel Name দিন। এখন আপনার website URL দিয়ে পরবর্তী সেটআপ অপশন চেক করুন। এবার Continue ক্লিক করুন।

দ্বিতীয় ধাপঃ ওয়েবসাইটে পিক্সেল এড করাঃ

প্রথমে ইভেন্ট ম্যানেজারে যান। এখান থেকে আপনি যে পিক্সেল সেটআপ করতে চান তা সিলেক্ট করুন। এরপর Continue Pixel Setup ক্লিক করুন। এখন Install code manually. সিলেক্ট করুন। এবার পিক্সেলের কোড কপি করুন। এবার আপনার ওয়েবসাইটের হেডার অপশনে তা পেস্ট করে সাইট আপডেট করে দিন।

এডস ম্যানেজারে পিক্সেল ক্রিয়েট করার পর আপনার পরবর্তী এডে আপনি পিক্সেল ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত হলেন।

বিশেষ সাবধানতাঃ ওয়েবসাইট ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে নূন্যতম ধারনা না থাকলে নিজে নিজে এ কাজ করতে যাবেন না। এতে আপনার সাইটের ক্ষতি হতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনি ওয়েব ডেভেলপারের সাহায্য নিন।

সবাই ঘরে থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।

আপনার পেইজের সিকিউরিটি

ফেসবুকে আপনার একটি পেইজ আছে। এটি খুবই জনপ্রিয় এবং প্রচুর ফলোয়ার আছে। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন আপনি আপনার পেইজে ডুকতে পারছেন না। কারন আপনার একাউন্ট হ্যাক হয়ে গেছে।

প্রতিদিনই এমন প্রচুর কাহিনী আমি শুনতে পাই। ফেসবুক পেইজকে নিরাপদ রাখতে আপনার নিজস্ব একাউন্ট নিরাপদ রাখতে হবে। কারন আপনি সাধারনত নিজের একাউন্ট দিয়েই পেইজ পরিচালনা করেন। নিজের একাউন্ট নিরাপদ রাখতে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলুনঃ

১) নিজের অরিজিনাল একাউন্ট থেকে পেইজ পরিচালনা করুন। তাহলে একাউন্টে কোন সমস্যা হলেও আপনার পরিচয়পত্র বা পাসর্পোট দিয়ে নিজের আইডি উদ্ধার করতে পারবেন।

২) ই-মেইল আইডি ও মোবাইল নাম্বার ভেরিফাইড করে রাখুন। সেই সাথে ই-মেইল ও মোবাইল নাম্বার এক্টিভ রাখুন।

৩) এডমিন প্যানেলে প্রয়োজনে একাধিক বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে এড করুন। তবে অদক্ষ কাউকে এড না করাই ভাল। এডমিনদের সকলের আইডি অবশ্যই সুরক্ষিত থাকতে হবে।

৪) লগইন এপ্রুভাল, Two Factor Authintacation, Code Generator এই তিনটি অপশন চালু রাখলে আপনার একাউন্ট অবশ্যই নিরাপদ হবে। সেক্ষেত্রে হ্যাকারের পক্ষে হ্যাক করা খুবই মুশকিল। ফেসবুকের সেটিংসে যাওয়ার পর ”সিকিউরিটি এন্ড লগইন অপশনে’ আপনি এই অপশনগুলো পাবেন।

আপনি যে যে ডিভাইস নিয়মিত ব্যবহার করেন, সেগুলো রিকগনাইজড করে রাখলে সাধারনত হ্যাক হয় না। উপরের অপশনগুলো যদি চালু থাকে, আর কেউ যদি অন্য ডিভাইস থেকে আপনার একাউন্ট হ্যাক করতে চায় তখন আপনার মোবাইলে একটি কোড চলে যাবে, অথবা আপনার এন্ড্রয়েড এপসে আপনার অনুমতি চাইবে। আপনি কোড না দেয়া পর্যন্ত বা এপস থেকে এপ্রুভাল না দেয়া পর্যন্ত কেউ আপনার একাউন্টে ডুকতে পারবে না।

৫) Get alerts about unrecognized logins চালু রাখুন। ফলে অন্য যে কোন ডিভাইস থেকে যে কেউ আপনার আইডিতে প্রবেশ করার সাথে সাথে আপনার মোবাইল ও ই-মেইলে মেসেজ চলে আসবে।

৬) ফেসবুক আইডি দিয়ে আমরা প্রায়ই বিভিন্ন এপসে লগ ইন করি। থার্ড পার্টি এই এপসগুলো প্রায়ই আপনার তথ্য চুরি করে। ফলে ভাল করে না জেনে ফেসবুক আইডি দিয়ে কোনো এপসে লগ‌ইন করবেন না।

৭) তিনজন বন্ধুকে (সর্বোচ্ছ ৫ জনকে দেয়া যায়) আপনি এড করে রাখতে পারেন। কোন কারনে আপনি আইডিতে ডুকতে না পারলে সেই তিনজন আপনাকে বিশ্বাষযোগ্য URL বা কোড পাঠাবে। সেগুলো দিয়ে আপনি আপনার আইডি ফেরত পাবেন।

৮) Authorized Logins অপশনে প্রবেশ করে আপনি আপনার লগইন করা ডিভাইসগুলো দেখতে পারবেন। কোন ডিভাইস যদি আপনার সন্দেহজনক মনে হয়, তবে তা সেখান থেকে মুছে দিন।

যারা ফেসবুকে মার্কেটিং করেন তারা এ বিষয়গুলো জানেন কি?

1. সর্বোচ্চ ৬০০০ গ্রুপের মেম্বার হতে পারবেন।

2. সর্বোচ্চ ৫০০০ ফ্রেন্ড এ্যাড করতে পারবেন।

3. সর্বোচ্চ ৫০০০ পেজ লাইক করতে পারবেন।

4. একটি ছবিতে সর্বোচ্চ ৫০ জন ব্যক্তি বা পেজকে ট্যাগ করতে পারবেন।

5. সর্বোচ্চ ১৫০ জনকে নিয়ে চ্যাট গ্রুপ তৈরী করতে পারবেন।

6. লাইক দেয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোন সীমা নেই। স্প্যামিং না করলে সারাদিন ধরে লাইক করা যাবে।

7. ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর নির্দিষ্ট কোন সীমা নেই। এটা নির্ভর করে একসেপ্ট করার পারসেন্টেজের উপর। মনে করুন, আপনি ৫০০ রিকোয়েস্ট পাঠালেন। তার যদি ৮০%ও একসেপ্ট করে তাহলে কোন সমস্যা হবে না। আবার ৫০ জনকে রিকোয়েস্ট পাঠালেন কিন্তু এর ৮০%ই আপনাকে রিজেক্ট করলো। তখন আপনি ব্লক হবেন।

8. আপনি কোন কিছুতে ব্লক হলে যেমন লাইক, কমেন্ট, মেসেজ রিকোয়েস্ট পাঠানো, গ্রুপে ফ্রেন্ড এ্যাড ইত্যাদি ক্ষেত্রে সেই ব্লকের মেয়াদ কতদিন বাকি আছে জানতে Settings > বামে নিচে Support Inbox এ ক্লিক করুন।

9. একটি আইডি থেকে আপনি আনলিমিটেড পেজ Role / Manage করতে পারবেন।

10. মোবাইল থেকে পেজের এ্যাডমিন করতে প্রথমে Page এ যান > ডানে More > Edit Page > Settings > Page Roles > Add Person to Page বক্সে নাম সার্চ করে সিলেক্ট করুন > Set as Admin > ফেসবুক পাসওয়ার্ড দিয়ে continue > অপশনগুলো থেকে যেটা করতে চান সিলেক্ট করে Add এ ক্লিক করুন।

11. পিসি থেকে Auto Video Play অফ করতে Settings > বাম পাশে নীচে Videos > Auto Play Videos > Default করা আছে, Off করে দিন।

12. যে সেটিংগুলো করতে ডেক্সটপ প্রয়োজন সেগুলো মোবাইলে Mozilla, Chrome ব্রাউজার ইনস্টল দিয়ে request desktop site অপশন সিলেক্ট করে করা যায়।